Showing posts with label Gita-11. Show all posts
Showing posts with label Gita-11. Show all posts

Thursday, March 12, 2015

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা : একাদশ অধ্যায় - বিশ্বরূপ-দর্শন-যোগ (11-Jagadishchandra)


|||||||||১০|১১|১২|১৩|১৪|১৫|১৬|১৭|১৮
(গীতাশাস্ত্রী জগদীশচন্দ্র ঘোষ)*

অর্জুন বলিলেন -
তুমি আমার প্রতি অনুগ্রহ করিয়া যে পরম গুহ্য অধ্যাত্ম-তত্ত্ব বর্ণন করিলে তাহাতে আমার এই মোহ বিদূরিত হইল । ১

হে কমললোচন, ভূতগণের উৎপত্তি ও লয় এবং তোমার অক্ষয় মাহাত্ম্য - এ সকলই তোমার নিকট হইতে সবিস্তারে আমি শুনিলাম । ২

হে পরমেশ্বর, তুমি আপনার বিষয় যাহা বলিলে তাহা এইরূপ বটে; হে পুরুষোত্তম, আমি তোমার সেই ঐশ্বরিক রূপ দেখিতে ইচ্ছা করি । ৩

হে প্রভো ! যদি তুমি মনে কর যে, আমি সেই রূপ দর্শনের যোগ্য, তাহা হইলে হে যোগেশ্বর, আমাকে তোমার সেই অক্ষয় আত্মরূপ প্রদর্শন কর । ৪

শ্রীভগবান্‌ বলিলেন -

হে পার্থ, নানা বর্ণ ও নানা আকৃতিবিশিষ্ট শত শত সহস্র সহস্র বিভিন্ন অবয়ববিশিষ্ট আমার এই অদ্ভূত রূপ দর্শন কর । ৫

হে ভারত (অর্জুন), এই আমার দেহে দ্বাদশ আদিত্য, অষ্ট বসু, একাদশ রুদ্র, অশ্বিনীকুমারদ্বয়, এবং ঊনপঞ্চাশৎ মরুদ্‌গণ দর্শন কর; পূর্বে যাহা কখনও দেখ নাই, তেমন বহুবিধ আশ্চর্য বস্তু দর্শন কর । ৬

হে নিদ্রাজয়ী অর্জুন, আমার এই দেহে একত্র অবস্থিত চরাচর সমগ্র জগৎ দর্শন কর এবং অপর যাহা কিছু তুমি দেখিতে ইচ্ছা কর, তাহাও এখন দেখিয়া লও । ৭

হে অর্জুন, তুমি তোমার এই চর্মচক্ষুদ্বারা আমার এই রূপ দর্শনে সমর্থ হইবে না । এজন্য তোমাকে দিব্যচক্ষু দিতেছি, তদ্দারা আমার এই ঐশ্বরিক যোগসামর্থ্য দেখ । ৮

সঞ্জয় কহিলেন -

হে রাজন্‌ মহাযোগেশ্বর হরি এইরূপ বলিয়া তৎপর পার্থকে পরম ঐশ্বরিক রূপ দেখাইলেন । ৯

সেই ঐশ্বরিক রূপে অসংখ্য মুখ, অসংখ্য নেত্র, অসংখ্য অদ্ভুত অদ্ভুত দর্শনীয় বস্তু, অসংখ্য দিব্য আভরণ এবং অসংখ্য উদ্যত দিব্যাস্ত্রসকল বিদ্যমান (ছিল) । ১০

সেই বিশ্বরূপ দিব্য মাল্য ও দিব্য বস্ত্রে সুশোভিত, দিব্যগন্ধদ্রব্যে অনুলিপ্ত, সর্বাশ্চর্যময়, দ্যুতিমান্‌ অনন্ত ও সর্বতোমুখ (সর্বত্র মুখবিশিষ্ট) (ছিল) । ১১

আকাশে যদি যুগপৎ সহস্র সূর্যের প্রভা উত্থিত হয়, তাহা হইলে সেই সহস্র সূর্যের প্রভা মহাত্মা বিশ্বরূপের প্রভাব তুল্য হইতে পারে । ১২

তখন অর্জুন সেই দেবদেবের দেহে নানা ভাবে বিভক্ত তদীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্বরূপ একত্রস্থিত সমগ্র জগৎ দেখিয়াছিলেন । ১৩

সেই বিশ্বরূপ দর্শন করিয়া ধনঞ্জয় বিস্ময়ে আপ্লুত হইলেন । তাঁহার সর্বাঙ্গ রোমাঞ্চিত হইয়া উঠিল । তিনি অবনতমস্তকে সেই দেবদেবকে প্রণাম করিয়া করজোরে বলিতে লাগিলেন । ১৪

অর্জুন বলিলেন -

হে দেব, তোমার দেহে আমি সমস্ত দেবগণ, স্থাবর জঙ্গমাত্মক বিবিধ সৃষ্ট পদার্থ, সৃষ্টিকর্তা কমলাসনস্থ ব্রহ্মা, নারদ-সনকাদি দিব্য কবিগণ এবং অনন্ত্য-তক্ষকাদি সর্পগণকে দেখিতেছি । ১৫

অসংখ্য বাহু, উদর, বদন ও নেত্রবিশিষ্ট অনন্তরূপ তোমাকে সকল দিকেই আমি দেখিতেছি । কিন্তু হে বিশ্বেশ্বর, হে বিশ্বরূপ, আমি তোমার আদি, অন্ত, মধ্য, কোথাও কিছু দেখিতেছি না । ১৬

কিরীট, গদা ও চক্রধারী, সর্বত্র দীপ্তিশালী, তেজঃপুঞ্জস্বরূপ, প্রদীপ্ত অগ্নি ও সূর্যের ন্যায় প্রভাসম্পন্ন, দুর্নিরীক্ষ্য, অপরিমেয় তোমার অদ্ভূত মুর্তি সর্বদিকে সর্বস্থানে আমি দেখিতেছি । ১৭

তুমি অক্ষর পরব্রহ্ম, তুমি একমাত্র জ্ঞাতব্য তত্ত্ব, তুমিই এই বিশ্বের পরম আশ্রয়, তুমিই সনাতন ধর্মের প্রতিপালক, তুমি অব্যয় সনাতন পুরুষ, ইহাতে আমার সংশয় নাই । ১৮

আমি দেখিতেছি, তোমার আদি নাই, মধ্য নাই, অন্ত নাই, তোমার বলৈশ্বর্যের অবধি নাই, অসংখ্য তোমার বাহু, চন্দ্র সূর্য তোমার নেত্রস্বরূপ, তোমার মুখমণ্ডলে প্রদীপ্ত হুতাশন জ্বলিতেছে; তুমি স্বীয় তেজে নিখিল বিশ্বকে সন্তাপিত করিতেছ । ১৯

হে মহাত্মন্‌, একমাত্র তুমিই স্বর্গ ও পৃথিবীর মধ্যস্থল এই অন্তরীক্ষ এবং দিক্‌সকলও ব্যাপিয়া রহিয়াছ । তোমার এই অদ্ভূত উগ্রমূর্তি দর্শন করিয়া ত্রিলোক ব্যথিত হইতেছে । ২০

ঐ দেবতাগণ তোমাতেই প্রবেশ করিতেছেন । কেহ কেহ ভীত হইয়া (জয় জয়, রক্ষ রক্ষ ইত্যাদি বাক্যে) কৃতাঞ্জলিপুটে রক্ষা প্রার্থনা করিতেছেন, মহর্ষি ও সিদ্ধগণ স্বস্তি স্বস্তি বলিয়া উত্তম সারগর্ভ স্তোত্রসমূহদ্বারা তোমার স্তব করিতেছেন । ২১

একাদশ রুদ্র, দ্বাদশ আদিত্য, অষ্ট বসু, সাধ্যনামক দেবগণ, বিশ্বদেবগণ, অশ্বিনীকুমারদ্বয়, ঊনপঞ্চাশ মরুৎ, উষ্মপা (পিতৃগণ), গন্ধর্ব, যক্ষ, অসুর ও সিদ্ধগণ সকলেই বিস্ময়াবিষ্ট হইয়া তোমাকে দর্শন করিতেছেন । ২২

হে মহাবাহো, বহু বহু মুখ, নেত্র, বাহু, ঊরু, পাদ ও উদর বিশিষ্ট এবং বহু বৃহদাকার দন্ত দ্বারা ভয়ঙ্করদর্শন তোমার এই সুবিশাল মূর্তি দেখিয়া লোকসকল ভীত হইয়াছে এবং আমিও ভীত হইয়াছি । ২৩

হে বিষ্ণো, নভঃস্পর্শী, তেজোময়, বিচিত্রবর্ণ, বিস্ফারিতবদন, অত্যুজ্জল বিশালনেত্র-বিশিষ্ট তোমার রূপ দেখিয়া আমার অন্তরাত্মা ব্যথিত হইতেছে, আমার দেহেন্দ্রিয় বিকল হইতেছে, আমি মনকে শান্ত করিতে পারিতেছি না । ২৪

বৃহৎ দন্তসমূহের দ্বারা ভয়ানকদর্শন, প্রলয়াগ্নি সদৃশ তোমার মুখসকল দর্শন করিয়া আমার দৃষ্টিভ্রম ঘটিতেছে (আমি দিশেহারা হইয়াছি), আমি স্বস্তি পাইতেছি না । হে দেবেশ, হে জগন্নিবাস, প্রসন্ন হও (আমার ভয় দূর কর) । ২৫

(জয়দ্রথাদি) রাজন্যবর্গসহ ঐ সকল ধৃতরাষ্ট্রপুত্রগণ এবং ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ এবং আমাদের প্রধান প্রধান যোদ্ধৃগণ তোমার দংষ্ট্রাকরাল ভয়ঙ্করদর্শন মুখগহ্বরে ধাবিত হইয়া প্রবেশ করিতেছে  । কাহারো কাহারো মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ হইয়া গিয়াছে এবং উহা তোমার দন্তসন্ধিতে সংলগ্ন হইয়া রহিয়াছে দেখা যাইতেছে । ২৬,২৭

যেমন নদীসমূহের বিপুল জলপ্রবাহ সমুদ্রাভিমুখ হইয়া সমুদ্রে গিয়া প্রবেশ করে, সেইরূপ এই মনুষ্য লোকের বীরগণ তোমার সর্বতোব্যাপ্ত জ্বলন্ত মুখগহ্বরে প্রবেশ করিতেছে । ২৮

যেমন পতঙ্গগণ অতি বেগে ধাবমান হইয়া মরণের জন্য জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রবেশ করে, সেইরূপ এই লোকসকল মরণের নিমিত্তই অতি বেগে তোমার মুখগহ্বরে প্রবেশ করিতেছে । ২৯

তুমি জ্বলন্ত মুখসমূহের দ্বারা লোকসমূহকে গ্রাস করিয়া বারংবার স্বাদগ্রহণ করিতেছ । সমগ্র জগৎ তোমার তীব্র তেজোরাশি-ব্যাপ্ত হইয়া প্রতপ্ত হইয়া উঠিয়াছে । ৩০

উগ্রমূর্তি আপনি কে, আমাকে বলুন । হে দেববর, আপনাকে প্রণাম করি, প্রসন্ন হউন । আদি পুরুষ আপনাকে আমি জানিতে ইচ্ছা করি । আপনি কে, কি কার্যে প্রবৃত্ত, বুঝিতেছি না । ৩১

শ্রীভগবান্‌ কহিলেন -

আমি লোকক্ষয়কারী অতি ভীষণ কাল; এক্ষণে এই লোকদিগকে সংহার করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছি; তুমি যুদ্ধ না করিলেও প্রতিপক্ষ সৈন্যদলে যে সকল যোদ্ধা অবস্থান করিতেছে তাহারা কেহই থাকিবে না । ৩২

অতএব, তুমি যুদ্ধার্থ উত্থিত হও; শত্রু জয় করিয়া যশঃ লাভ কর, নিষ্কন্টক রাজ্য ভোগ কর । হে অর্জুন, আমি ইহাদিগকে পূর্বেই নিহত করিয়াছি; তুমি এখন নিমিত্ত-মাত্র হও । ৩৩

দ্রোণ, ভীষ্ম, জয়দ্রথ, কর্ণ এবং অন্যান্য যুদ্ধবীরগণকে আমি পূর্বেই নিহত করিয়া রাখিয়াছি, তুমি সেই হতগণকে নিহত কর; ভয় করিও না । রণে শত্রুগণকে নিশ্চয় নিহত করিতে পারিবে, যুদ্ধ কর । ৩৪

সঞ্জয় বলিলেন -

শ্রীকৃষ্ণের এই বাক্য শ্রবণ করিয়া অর্জুন কম্পিত কলেবরে কৃতাঞ্জলিপুটে কৃষ্ণকে নমস্কার করিলে; আবার অত্যন্ত ভীত হইয়া প্রণামপূর্বক গদ্‌গদ স্বরে বলিতে লাগিলেন । ৩৫

অর্জুন কহিলেন -

হে হৃষীকেশ, তোমার মাহাত্ম্য-কীর্তনে সমস্ত জগৎ যে হৃষ্ট হয় এবং তোমার প্রতি অনুরক্ত হয়, ইহা যুক্তিযুক্ত; রাক্ষসেরা যে তোমার ভয়ে ভীত হইয়া চতুর্দিকে পলায়ন করে, এবং সিদ্ধগণ যে তোমাকে নমস্কার করেন, তাহাও আশ্চর্য নহে । ৩৬

হে মহাত্মন্‌, হে দেবেশ, হে জগন্নিবাস, তুমি ব্রহ্মারও গুরু এবং আদি কর্তা; অতএব সমস্ত জগৎ কেন তোমাকে নমস্কার না করিবে । তুমি সৎ (ব্যক্ত জগৎ), তুমি অসৎ (অব্যক্ত প্রকৃতি) এবং সদসতে অতীত যে অক্ষর ব্রহ্ম তাহাও তুমি । ৩৭

হে অনন্তরূপ, তুমি আদিদেব, তুমি অনাদি পুরুষ, তুমি এই বিশ্বের একমাত্র লয়স্থান, তুমি জ্ঞাতা, তুমিই জ্ঞাতব্য, তুমিই পরমধাম ! তুমি এই বিশ্ব ব্যাপিয়া অবস্থান করিতেছ । ৩৮

বায়ু, যম, অগ্নি, বরুণ, চন্দ্র তুমিই; পিতামহ ব্রহ্মাও তুমি এবং ব্রহ্মার জনকও (প্রপিতামহ) তুমি । তোমাকে সহস্রবার নমস্কার করি, আবার পুনঃ পুনঃ তোমাকে নমস্কার করি । ৩৯

তোমাকে সম্মুখে নমস্কার করি, তোমাকে পশ্চাতে নমস্কার করি; হে সর্বস্বরূপ, সর্বত্রই তুমি - তোমাকে সকল দিকেই নমস্কার করি; অনন্ত তোমার বলবীর্য, অসীম তোমার পরাক্রম । তুমি সমস্ত  ব্যাপিয়া রহিয়াছ, সুতরাং তুমিই সমস্ত । ৪০

তোমার এই বিশ্বরূপ এবং ঐশ্বর্যমহিমা না জানিয়া, তোমাকে সখা ভাবিয়া অজ্ঞানবশতঃ বা প্রণয়বশতঃ, হে কৃষ্ণ, হে মাধব, হে সখা, এইরূপ তোমায় বলিয়াছি; হে অচ্যুত, আহার, বিহার, শয়ন ও উপবেশনকালে একা অথবা বন্ধুজন সমক্ষে পরিহাসচ্ছলে তোমার কত অমর্যাদা করিয়াছি, অচিন্ত্যপ্রভাব তুমি, তোমার নিকট তজ্জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছি । ৪১,৪২

হে অমিতপ্রভাব, তুমি এই চরাচর সমস্ত লোকের পিতা; তুমি পূজ্য, গুরু ও গুরু হইতে গুরুতর; ত্রিজগতে তোমার তুল্য কেহই নাই, তোমা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ থাকিবে কি প্রকারে ? ৪৩

হে দেব, পূর্বোক্ত রূপে আমি অপরাধী, সেই হেতু দণ্ডবৎ প্রণামপূর্বক তোমার প্রসাদ প্রার্থনা করিতেছি । সকলের বন্দনীয় ঈশ্বর তুমি; পিতা যেমন পুত্রের, সখা যেমন সখার, প্রিয় যেমন প্রিয়ার অপরাধ ক্ষমা করেন, তুমিও তদ্রুপ আমার অপরাধ ক্ষমা কর । ৪৪

হে দেব, পূর্বে যাহা কখনও দেখি নাই, সেই রূপ দেখিয়া আমার হর্ষ হইয়াছে বটে, কিন্তু ভয়ে মন ব্যাকুল হইয়া উঠিয়াছে; অতএব, তোমার সেই (চির পরিচিত) পূর্বরূপটা আমাকে দেখাও; হে দেবেশ, হে জগন্নিবাস, আমার প্রতি প্রসন্ন হও । ৪৫

কিরীটধারী এবং গদা ও চক্রহস্ত তোমার সেই পূর্বরূপই আমি দেখিতে ইচ্ছা করি । হে সহস্রবাহো, বিশ্বমূর্তে, তুমি চতুর্ভূজ মূর্তি ধারণ কর । ৪৬

শ্রীভগবান্‌ বলিলেন -

আমি প্রসন্ন হইয়া স্বকীয় যোগ প্রভাবেই এই তেজোময়, অনন্ত, আদ্য, বিশ্বাত্মক পরমরূপ তোমাকে দেখাইলাম; আমার এই রূপ তুমি ভিন্ন পূর্বে কেহ দেখে নাই । ৪৭

হে কুরুপ্রবীর, না বেদাধ্যয়ন দ্বারা, না যজ্ঞবিদ্যার অনুশীলন দ্বারা, না দানাদি ক্রিয়াদ্বারা, না উগ্র তপস্যা দ্বারা - মনুষ্যলোকে তুমি ভিন্ন আর কেহ আমার ঈদৃশ রূপ দেখিতে সক্ষম হয় নাই । ৪৮

তুমি আমার এই ঘোর রূপ দেখিয়া ব্যথিত হইও না, বিমূঢ় হইও না, ভয় ত্যাগ করিয়া প্রীত মনে পুনরায় তুমি আমার পূর্বরূপ দর্শন কর । ৪৯

সঞ্জয় বলিলেন -

বাসুদেব অর্জুনকে এই বলিয়া পুনরায় সেই স্বীয় মূর্তি দেখাইলেন; মহাত্মা পুনরায় প্রসন্ন মূর্তি ধারণ করিয়া ভীত অর্জুনকে আশ্বস্ত করিলেন । ৫০

অর্জুন বলিলেন -

হে জনার্দন, তোমার এই সৌম্য মানুষ রূপ দর্শন করিয়া আমি এখন প্রসন্নচিত্ত ও প্রকৃতিস্থ হইলাম । ৫১

শ্রীভগবান্‌ বলিলেন -

তুমি আমার যে রূপ দেখিলে উহার দর্শন লাভ একান্ত কঠিন; দেবগণও সর্বদা এই রূপের দর্শনাকাঙ্ক্ষী । ৫২

আমাকে যেরূপ দেখিলে এই রূপ বেদাধ্যয়ন, তপস্যা, ধ্যান, যজ্ঞ, কোন কিছু দ্বারাই দর্শন করা যায় না । ৫৩

হে পরন্তপ, হে অর্জুন, কেবল অনন্যা ভক্তি দ্বারাই ঈদৃশ আমাকে স্বরূপতা জানিতে পারা যায়, সাক্ষাৎ দেখিতে পারা যায়, এবং আমাতে প্রবেশ করিতে পারা যায় । ৫৪

হে পাণ্ডব, যে ব্যক্তি আমারই কর্মবোধে সমুদয় কর্ম করেন, আমিই যাঁহার একমাত্র গতি, যিনি সর্বপ্রকারে আমাকে ভজনা করেন, যিনি সমস্ত বিষয়ে আসক্তিশূন্য, যাহার কাহারও উপর শত্রুভাব নাই (সর্বভূতে বৈরভাবশূন্য), তিনিই আমাকে প্রাপ্ত হন । ৫৫

___________________________

১) 'সপ্তম অধ্যায়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান আরম্ভ করিয়া সপ্তম ও অষ্টমে পরমেশ্বরের অক্ষর অথবা অব্যক্ত রূপের এবং নবম ও দশমে অনেক ব্যক্ত রূপের যে জ্ঞান বলিয়াছে, তাহাকেই অর্জুন প্রথম শ্লোকে ‘অধ্যাত্ম’ বলিয়াছেন ।' - [গীতারহস্য, লোকমান্য তিলক] । আমার এই মোহ বিনষ্ট হইল অর্থাৎ তোমার প্রকৃত তত্ত্ব জানিয়া, তুমিই সর্বভূতের নিয়ন্তা, সর্ব কর্মের নিয়ামক, ইহা বুঝিতে পারিয়া ‘আমি কর্তা’, ‘আমার কর্ম’ ইত্যাদি রূপে যে আমার মোহ তাহা অপগত হইল, আমি বুঝিতেছি, তুমিই কর্তা, তুমিই যন্ত্রী, আমি যন্ত্রমাত্র ।

৩) তুমি পরমেশ্বর । ‘আমি একাংশে জগৎ ধারণ করিয়া আছি’ ইত্যাদি যাহা তুমি বলিলে তাহা সত্য । আমার বড় ইচ্ছা হইতেছে আমি তোমার সেই বিশ্বরূপ দর্শন করি ।

৭) ‘অপর যাহা কিছু’ এ কথার তাৎপর্য্য এই যে, ভূত, ভবিষ্যৎ, বর্তমান ত্রিকালের যত কিছু ঘটনা সকলি আমার এই দেহে বিদ্যমান । এই যুদ্ধের জয়-পরাজয়াদি ভবিষ্যৎ ঘটনা যাহা দেখিতে ইচ্ছা কর, তাহাও এই দেহে দেখিতে পাইবে (১১|১৬-৩৩ ইত্যাদি শ্লোক দ্রষ্টব্য) ।

১২) এই শ্লোকে অপূর্ব শব্দবিন্যাসকৌশলে শব্দের ধ্বনি দ্বারাই কিরূপে অর্থ দ্যোতনা হইতেছে, তাহা লক্ষ্য করিবার বিষয় ।

১৯) ‘অনন্ত বাহু’, ‘আদি অন্ত মধ্যহীন’ ইত্যাদি বর্ণনা পূর্বে করা হইয়াছে । কিন্তু হর্ষ-বিস্ময়াদি রসের বর্ণনায় পুনরুক্তি দোষজনক হয় না - “প্রমাদে বিস্ময়ে হর্ষে দ্বিস্ত্রিরুক্তং ন দুষ্যতি ।”

২০) অর্জুন বিশ্বরূপ ব্যতীত আর কিছুই দেখিতেছেন না এবং তিনি এই রূপ দেখিয়া স্বয়ং অত্যন্ত ভীত হইয়াছেন । ‘ত্রিলোক ভীত হইয়াছে’ যে বলিতেছেন উহা তাঁহারই মনের ভাব মাত্র । বস্তুতঃ অর্জুন ব্যতীত আর কেহ বিশ্বরূপ দেখিতে পারে না, দেখেও নাই ।

২২) উষ্মপাঃ = পিতৃগণ; শ্রাদ্ধে পিতৃগণকে যে অন্নাদি দেওয়া হয় তাহা উষ্ণ থাকিলেই তাঁহারা উহার উষ্মভাগ অর্থাৎ তৎতৎ-পদার্থে নিহিত প্রকৃত তেজঃশক্তি গ্রহণ করেন । শাস্ত্রে সাত প্রকার পিতৃগণের উল্লেখ আছে [গী|১০|২৯] ।

২৭) ভগবানের ভূত-ভবিষ্যত নাই, তাঁহার সকলই বর্তমান । তাঁহার দেহে ত্রৈকালিক ঘটনার একত্র সমাবেশ । সুতরাং যুদ্ধ ব্যাপারে যাহা ঘটিবে ভগবান তাঁহার বিরাট দেহে তাহাই দেখাইতেছেন ।

৩১) আমি আপনার বিশ্বরূপ ও বিভূতিসমূহ দেখিতে চাহিয়াছিলাম । কিন্তু আপনার এই সংহারমূর্তি দেখিয়া আমি বুঝিতেছি না, আপনি কে ও কি কার্যে প্রবৃত্ত ।

৩৩) সব্যসাচী = যিনি বাম হস্তে শর-সন্ধান করিতে অভ্যস্ত; অর্জুন

দুর্যোধন যখন সন্ধির সকল প্রস্তাবই অগ্রাহ্য করিলেন, তখন ভীষ্মদেব শ্রীকৃষ্ণকে বলিয়াছিলেন - 'বুঝিতেছি, এই ক্ষত্রিয়েরা কালপক্ক হইয়া উঠিয়াছে ।' - [মহাভারত উদ্যোগপর্ব |১২৭|৩২] । এই কাল কি এবং কালপক্ক কাহাকে বলে, তাহাই শ্রীভগবান বিশ্বরূপে অর্জুনকে প্রত্যক্ষ দেখাইলেন ।

৩৯) প্রজাপতি, প্রপিতামহ : ব্রহ্মা হইতে মরীচি আদি মানস-পুত্রের উৎপত্তি, মরীচি হইতে কশ্যপ এবং কশ্যপ হইতে সমস্ত প্রজার উৎপত্তি । ব্রহ্মা, মরীচি-আদির পিতা, এই জন্য তাঁহাকে পিতামহ বলা হয় এবং ব্রহ্মারও পিতা অর্থাৎ যিনি পরমেশ্বর তিনি প্রপিতামহ । কশ্যপদিকেও প্রজাপতি বলে । কিন্তু এখানে প্রজাপতি শব্দ একবচনান্ত থাকাতে উহার অর্থ ব্রহ্মা বলিয়াই গ্রহণ করা সঙ্গত ।

৪৫-৪৬) ঐশ্বর্য ও মাধুর্য
একাদশ অধ্যায়ে বিশ্বরূপের বর্ণনা, ইহা অদ্ভুতরসের বর্ণনা - ইহাতে ভয়, বিস্ময়, বিহ্বলতা আনয়ন করে - ইহাতে মাধুর্য, শান্তি ও প্রীতির ভাব নাই । তাই সৌন্দর্য-রস-পিপাসু ভক্তগণ সেই অনন্তস্বরূপের অনন্ত ঐশ্বর্যের চিন্তা করেন না - তাঁহার শান্ত সৌম্য লীলাবিগ্রহই ধ্যান করেন - উহার অপার সৌন্দর্য উপভোগ করেন । ঐশ্বর্য ও মাধুর্যে এই প্রভেদ । কথাটি রসতত্ত্ব-বিচারে পাশ্চাত্য দার্শনিকগণও বেশ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করিয়াছেন । যেমন -

"The beautiful calms and pacifies us; the sublime brings disorders into our faculties." [Weber's History of Philosophy]

"The sublime is incompatible with charms; and as the mind is not merely attracted by the object but continually in turn repelled, satisfaction in the sublime does not so much contain positive pleasure as admiration and respect." [Kant]

"The beautiful is the infinite represented in the finite form". [Schelling]

৪৭) শ্রীকৃষ্ণের চতুর্ভুজ ও দ্বিভুজ রূপ : এ-স্থলে অর্জুন ভগবানের চতুর্ভুজ বিষ্ণুমূর্তি দেখিতে চাহিতেছেন । কৃষ্ণলীলায় ভগবান দ্বিভুজ; কিন্তু বাসুদেবগৃহে তিনি শঙ্খচক্রগদাপদ্মধারী চতুর্ভুজ-রূপেই আবির্ভূত হইয়াছিলেন । পরে কংসভয়ে ভীত বসুদেবের প্রার্থনায় দুই বাহু সংবরণ করেন । কিন্তু সময়-সময় চতুর্ভুজ মূর্তিও ধারণ করিয়াছেন । [ভাগবত |১০|৮৩|২৮]

৫৪) একমাত্র অনন্যা ভক্তি দ্বারাই পরমেশ্বরের স্বরূপ জ্ঞান হয়, তাঁহার সাক্ষাৎকার হয় এবং পরিশেষে তাঁহার সহিত তাদাত্ম্য লাভ হয় । এই শেষ অবস্থাকে ভক্তিশাস্ত্রে অধিরূঢ়ভাব বলে (১৮|৫৫ দ্রষ্টব্য) ।

৫৫) অহিংস-নীতি ও ধর্ম্যযুদ্ধ :
ব্যবহারিক ধর্মতত্ত্ব বড় সূক্ষ্ম ও জটিল । অহিংসনীতি ও অত্যাচারীর সংহার, সত্যকথন ও দস্যুতাড়িত পলায়নপর আশ্রিতের রক্ষা, ইত্যাদি স্থলে যখন পরস্পর বিরোধ উপস্থিত হয়, তখন কোনটি ধর্ম, কোনটি অধর্ম - তাহা নির্ণয় করা বড় সহজ নহে । এই হেতু মহাভারতে পুনঃপুনঃ বলা হইয়াছে, 'সূক্ষ্মা গতির্হি ধর্মস্য' । [ভূমিকা |জগদীশ্চন্দ্র|9.1.8]

বিশ্বরূপ ও ভূমাবাদ :
দুইটি শ্রুতিবাক্যকে সনাতন ধর্মের ভিত্তি বলা যায় :-

  1. 'একমেবাদ্বিতীয়ং ব্রহ্ম' - ব্রহ্ম এক ও অদ্বিতীয়
  2. 'সর্বং খল্বিদং ব্রহ্ম' - এই সমস্তই ব্রহ্ম

কিন্তু এই বাক্য দুইটির ব্যাখ্যায় বৈদান্তিকগণের মধ্যে মর্মান্তিক মতভেদ আছে । এক পক্ষ বলেন, - একমাত্র ব্রহ্মই আছেন, তিনি অখণ্ড অদ্বৈত-তত্ত্ব, তাহার মধ্যে নানাত্ব নাই - তিনি ভূমা । ভ্রমবশত সেই ব্রহ্ম-বস্তুতেই জগতের অধ্যাস হয় - যেমন রজ্জুতে সর্পভ্রম হয়, মরীচিকায় জলভ্রম হয় । এই ভ্রমের কারণ মায়া বা অজ্ঞান; অজ্ঞান বিদূরিত হইলেই ব্রহ্ম উদ্ভাসিত হন ।
অপরপক্ষ বলেন - ব্রহ্ম অদ্বিতীয় তাহা ঠিক, ব্রহ্মই এই সমস্ত হইয়াছেন । তিনিই জগতের নিমিত্ত কারণ ও উপাদান কারণ । তিনি আপনাকে জগৎরূপে পরিণত করিয়াছেন । জগৎ ব্রহ্মের শরীর, বিশ্ব তাঁহার রূপ বা দেহ, এইজন্য তিনি বিশ্বরূপ । তিনিই ভূমা । ইহা ভূমাবাদের অন্য দিক ।
___________________________

"Sri Gita" or "Srimadbhagabadgeeta" by Gitashastri Jagadish Chandra Ghosh & Anil Chandra Ghosh. 26th Edition - June 1997 (1st Edition, 1925 from Dhaka now in Bangladesh). Published by Subhadra Dey (Ghosh), Presidency Library, 15 Bankim Chatterjee Street, Kolkata-700073. Printed by Web Impressions Pvt.Ltd., 34/2 Beadon Street, Kolkata-700006.



Disclaimer: This site is not officially related to Presidency LibraryKolkataThis is a personal, non-commercial, research-oriented effort of a novice religious wanderer.
এটি আধ্যাত্মিক পথের এক অর্বাচীন পথিকের ব্যক্তিগত, অবাণিজ্যিক, গবেষণা-ধর্মী প্রয়াস মাত্র ।

[Uploaded by rk]


<Previous--Contents--Next>

Tuesday, August 5, 2014

শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতা : একাদশ অধ্যায় – বিশ্বরূপদর্শনযোগ (Gita : Chapter 11)

|||||||||১০|১১|১২|১৩|১৪|১৫|১৬|১৭|১৮
 (স্বামী জগদীশ্বরানন্দ)*
 
['আমি একাংশমাত্র দ্বারা সমস্ত জগৎ ব্যাপ্ত করিয়া আছি' - পূর্বাধ্যায়ের শেষ শ্লোকে ভগবানের এই উক্তি শ্রবণপূর্বক তাঁহার জগদাত্মক ঈশ্বরীয় বিশ্বরূপ সাক্ষাত করিতে ইচ্ছা করিয়া -]

অর্জুন বলিলেন -
হে ভগবন্‌, আমার প্রতি অনুগ্রহ করিয়া অতিগুহ্য পুরুষার্থপ্রদ আত্মানাত্ম-বিবেকবিষয়ক যে অধ্যাত্ম-তত্ত্ব আপনি বলিলেন, তাহার দ্বারা আমার এই (আত্মার কর্তৃত্বাদিশূন্য স্বরূপের আবরক) মোহ দূর হইয়াছে । ১

হে পদ্মপলাশলোচন, ভূতগণের উৎপত্তি ও প্রলয় আপনা হইতে হয় এবং আপনার নিরুপাধিক ও সোপাধিক সর্বাত্মত্বাদিরূপ অক্ষয় মাহাত্ম্য বিস্তৃতভাবেই আপনার নিকট শ্রবণ করিলাম । ২

হে পরমেশ্বর, আপনি যে আত্মতত্ত্ব বলিয়াছেন, তাহা যথার্থ । তথাপি হে পুরুষোত্তম, আপনার জ্ঞান, ঐশ্বর্য, শক্তি, বল, বীর্য ও তেজঃ সমন্বিত ঈশ্বরীয় বিশ্বরূপ সাক্ষাৎ করিতে আমি ইচ্ছা করি । ৩

হে প্রভো, যদি আমি সেই বিশ্বরূপ দেখিবার যোগ্য হই, তাহা হইলে হে যোগেশ্বর, আমাকে আপনার অব্যয় জগদাত্মরূপ দেখান । ৪

শ্রীভগবান্‌ বলিলেন -
হে পার্থ, নানা বর্ণ ও নানা আকৃতি-বিশিষ্ট শত শত এবং সহস্র সহস্র আমার বিভিন্ন দিব্যমূর্তি দর্শন কর । ৫

হে ভারত, দ্বাদশ আদিত্য, অষ্ট বসু, একাদশ রুদ্র, অশ্বিনীকুমারদ্বয় এবং ঊনপঞ্চাশ বায়ূ দর্শন কর এবং বহু অদৃষ্টপূর্ব অদ্ভূত বস্তুও আমার বিশ্বরূপে দর্শন কর । ৬

হে অর্জুন, আমার এই বিরাট শরীরে অবয়বরূপে একত্র অবস্থিত সমগ্র স্থাবরজঙ্গমাত্মক বিশ্ব এবং অন্য যাহা কিছু দেখিতে ইচ্ছা কর, তাহা আজ দর্শন কর । ৭

তুমি নিজের প্রাকৃত স্থূল চক্ষু দ্বারা আমার বিশ্বরূপ দর্শন করিতে সমর্থ হইবে না । তোমাকে অপ্রাকৃত জ্ঞানচক্ষু দিতেছি । উহার দ্বারা আমার অঘটনঘটনসামর্থ্যরূপ যোগ-শক্তি দর্শন কর । ৮

সঞ্জয় বলিলেন -
হে মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র মহান্‌ যোগেশ্বর ভগবান্‌ শ্রীকৃষ্ণ এইরূপ বলিয়া অর্জুনকে নিজের অলৌকিক বিশ্বরূপ দেখাইলেন । ৯

সেই বিশ্বরূপ অনেক মুখ ও অনেক নেত্র-যুক্ত, অনেক অদ্ভূত আকৃতি ও অসংখ্য দিব্য-অলঙ্কার-বিশিষ্ট এবং অনেক উদ্যত দিব্য আয়ুধে সজ্জিত । ১০

উক্ত বিশ্বরূপ দিব্যমাল্যে ও দিব্য বস্ত্রে ভূষিত, দিব্য গন্ধ দ্বারা অনুলিপ্ত, অত্যন্ত আশ্চর্যজনক, জ্যোতির্ময়, অনন্ত ও সর্বত্র মুখবিশিষ্ট । ১১

যদি আকাশে সহস্র সূর্যের প্রভা যুগপৎ সমুদিত হয়, তাহা হইলে সেই দীপ্তি বিশ্বরূপের প্রভার কিঞ্চিৎ তুল্য হইতে পারে । ১২

তখন অর্জুন সেই দেবদেবের বিরাট শরীরে দেব, পিতৃ, মনুষ্যাদি নানাভাবে বিভক্ত সমগ্র জগৎ অবয়বরূপে একত্র অবস্থিত দেখিলেন । ১৩

অর্জুন সেই বিশ্বরূপ দর্শন করিয়া আশ্চার্যান্বিত ও রোমাঞ্চিত হইলেন এবং অবনত মস্তকে বিশ্বরূপধারী ভগবান্‌কে প্রণাম করিয়া করজোড়ে বলিলেন - ১৪

অর্জুন বলিলেন -
হে দেব, আপনার এই বিশ্বরূপে সমস্ত দেবতা, চরাচর জগৎ, বশিষ্ঠাদি ঋষিগণ, বাসুকি প্রভৃতি সর্পসমূহ ও পৃথিবীপদ্মের মেরুকর্ণিকাসনে অবস্থিত সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে দেখিতেছি । ১৫

হে বিশ্বেশ্বর, সর্বত্র বহু বাহু, বহু উদর, বহু মুখ ও বহু নেত্র-বিশিষ্ট আপনার বিরাট মূর্তি দেখিতেছি । হে বিশ্বরূপ, আমি আপনার আদি, মধ্য ও অন্ত দেখিতেছি না । ১৬

কিরীট, গদা ও চক্রধারী, সর্বত্র দীপ্তিমান, তেজঃপুঞ্জস্বরূপ, দুর্নিরীক্ষ্য, প্রদীপ্ত অগ্নি ও সূর্যের ন্যায় প্রভাবিশিষ্ট এবং অপ্রমেয়স্বরূপ আপনাকে আমি সর্বত্র দেখিতেছি । ১৭

আপনি পরব্রহ্ম এবং একমাত্র জ্ঞাতব্য । আপনি বিশ্বের পরম আশ্রয় ও সনাতন ধর্মের রক্ষক । আপনি সনাতন পরমাত্মা - ইহাই আমার অভিমত । ১৮

আমি দেখিতেছি, আপনার আদি, মধ্য ও অন্ত নাই; আপনি অনন্তশক্তিশালী ও অসংখ্যবাহুবিশিষ্ট; চন্দ্র ও সূর্য আপনার নেত্র; আপনার মুখমণ্ডলে প্রদীপ্ত অগ্নির জ্যোতিঃ এবং আপনি স্বীয় তেজে সমস্ত জগৎ সন্তপ্ত করিতেছেন । ১৯

হে ভগবন্‌, স্বর্গ ও মর্ত্যের মধ্যবর্তী অন্তরীক্ষ এবং দশ দিক্‌ আপনি পরিব্যাপ্ত করিয়া আছেন । আপনার এই অদ্ভূত উগ্র বিশ্বরূপ দেখিয়া ত্রিলোক অতিশয় ভীত হইতেছে । ২০

[কুরুক্ষেত্রযুদ্ধে জয়পরাজয়বিষয়ে অর্জুনের আশঙ্কা শ্রীভগবান্‌ দূর করিতেছেন -]

শ্রীকৃষ্ণলীলায় ভূভারহরণার্থ ধরাতলে অবতীর্ণ ঐ যুধ্যমান মনুষ্যদেহধারী বসু আদি দেবতাগণ আপনাতেই প্রবেশ করিতেছেন । কেহ কেহ ভীত হইয়া করজোড়ে আপনার গুণগান করিতেছেন এবং মহর্ষি ও সিদ্ধগণ 'জগতের কল্যাণ হউক' বলিয়া প্রচুর স্তুতিবাক্য দ্বারা আপনার স্তব করিতেছেন । ২১

রুদ্রগণ ও আদিত্যগণ, সাধ্য নামক দেবগণ ও বসুগণ, বিশ্ব নামক দেবতাগণ, অশ্বিনীকুমারদ্বয়, মরুদ্‌গণ ও পিতৃগণ এবং হাহা হূহূ প্রভৃতি গন্ধর্ব, কুবের প্রভৃতি যক্ষ, বিরোচন প্রভৃতি অসুর ও কপিকাদি সিদ্ধগণ সকলেই বিস্মিত হইয়া আপনার বিশ্বরূপ দর্শন করিতেছেন । ২২

হে মহাবাহো, বহু মুখ, বহু চক্ষু, বহু বাহু, বহু ঊরু, বহু চরণ ও বহু উদর-বিশিষ্ট এবং অসংখ্য বৃহৎ দন্ত দ্বারা ভীষণ আপনার বিরাট বিগ্রহ দেখিয়া সর্ব প্রাণী অত্যন্ত ভীত হইয়াছে এবং আমিও অতিশয় ভীত হইয়াছি । ২৩

হে ভগবান্‌ আপনার আকাশস্পর্শী তেজোময়, নানাবর্ণযুক্ত ও বিস্ফারিত মুখমণ্ডল এবং উজ্জ্বল বিশাল চক্ষু দেখিয়া আমার হৃদয় ব্যথিত হইয়াছে এবং আমি ধৈর্য ও শান্তি পাইতেছি না । ২৪

হে দেবেশ, দীর্ঘ দন্ত দ্বারা বিকৃত ও প্রলয়াগ্নিতুল্য আপনার মুখসকল দেখিয়া আমার দিগ্‌ভ্রম হইতেছে এবং আমি শান্তি পাইতেছি না । হে জগন্নিবাস, আপনি আমার প্রতি প্রসন্ন হউন । ২৫

রাজন্যবর্গ সহ ঐ ধার্তরাষ্ট্রগণ এবং মৎপক্ষীয় ধৃষ্টদ্যুম্ন প্রভৃতি প্রধান যোদ্ধাগণ, ভীষ্ম, দ্রোণ ও কর্ণের সহিত আপনার দংষ্ট্রাকরাল ভীষণ মুখগহ্বরে দ্রুতবেগে প্রবেশ করিতেছেন । মুখপ্রবিষ্টদিগের মধ্যে কেহ কেহ চূর্ণিতমস্তক হইয়া ভক্ষিত মাংসখণ্ডসমূহের ন্যায় আপনার দন্তসন্ধিস্থলে সংলগ্ন হইতেছেন, দেখিতেছি । ২৬-২৭

যেমন নদীসমূহের বহু জলস্রোত সমুদ্রাভিমুখে প্রবাহিত হইয়া দ্রুতবেগে সমুদ্রে বিলীন হয়, সেরূপ এই বীরপুরুষগণ আপনার সর্বত্র প্রজ্বলন্ত মুখবিবরে প্রবেশ করিতেছেন । ২৮

যেমন পতঙ্গগণ দ্রুতগতিতে ধাবিত হইয়া মরণের জন্যই জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রবেশ করে, সেইরূপ এই লোকসকলও মৃত্যুর নিমিত্ত অতিবেগে আপনার মুখগহ্বরসমূহে প্রবেশ করিতেছেন । ২৯

হে ভগবান্‌, আপনি আপনার জ্বলন্ত মুখসমূহ দ্বারা দুর্যোধনাদি সকল লোককে গ্রাস করিয়া সর্বদিকে ভক্ষণ করিতেছেন । আপনার তীব্র প্রভা সমগ্র জগৎকে তেজোরাশি দ্বারা পূর্ণ করিয়া সন্তপ্ত করিতেছে । ৩০

উগ্রমূর্তি আপনি কে, আমাকে বলুন । আপনাকে প্রণাম করি । হে দেবশ্রেষ্ঠ, প্রসন্ন হউন । আদি পুরুষ আপনাকে আমি জানিতে ইচ্ছা করি । কারণ আপনার প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য আমি বুঝিতে পারিতেছি না । ৩১

শ্রীভগবান্‌ বলিলেন -
আমি লোকক্ষয়কারী প্রবৃদ্ধ কাল । বর্তমানে লোকসংহার করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছি । তুমি যুদ্ধ না করিলেও বিপক্ষদলে যে বীরগণ আছেন, তাঁহারা কেহই জীবিত থাকিবেন না । ৩২

অতএব, তুমি যুদ্ধার্থ উত্থিত হও ও যশ লাভ কর এবং শত্রুবর্গকে পরাজিত করিয়া নিষ্কন্টক রাজ্য ভোগ কর । আমার দ্বারা ইহারা পূর্বেই নিহত হইয়াছে । হে সব্যসাচী, তুমি নিমিত্তমাত্র হও । ৩৩

ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, জয়দ্রথ এবং অন্যান্য বীর যোদ্ধাকে আমি পূর্বেই নিহত করিয়াছি; সেই মৃতদিগকেই তুমি বধ কর । ভীত হইও না; তুমি যুদ্ধে শত্রুদিগকে নিশ্চয়ই জয় করিবে, অতএব যুদ্ধ কর । ৩৪

[এই স্থানে সঞ্জয়বাক্যের তাৎপর্য এই যে, দ্রোণাদির মৃত্যু অনিবার্য জানিয়া এবং দ্রোণাদির মৃত্যু হইলে দুর্যোধনাদিরও জীবনের আশা করা বৃথা - ইহা জানিয়াও অখণ্ডনীয় ভবিতব্যতাবশতঃ ধৃতরাষ্ট্র সন্ধি করিতে ইচ্ছুক হইলেন না ।]

সঞ্জয় বলিলেন -
ভগবান্‌ শ্রীকৃষ্ণের এই বাক্যশ্রবণে অত্যন্ত ভীত হইয়া কম্পিতকলেবরে কৃতাঞ্জলিপুটে প্রণামপূর্বক গদ্‌গদভাবে অর্জুন বলিলেন - ৩৫

অর্জুন বলিলেন -
হে হৃষিকেশ, আপনার মাহাত্ম্যকীর্তনে সমস্ত জগৎ প্রহৃষ্ট ও আপনার প্রতি অনুরক্ত হয় । কারণ আপনি সর্বাত্মা ও সর্বভূতের সুহৃৎ । রাক্ষসগণ ভীত হইয়া নানাদিকে পলায়ন করিতেছে এবং সিদ্ধগণ আপনাকে নমস্কার করিতেছেন । এই সমস্তই যুক্তিযুক্ত । ৩৬

হে মহাত্মা, হে অনন্ত, হে দেবেশ, হে জগন্নিবাস, আপনি ব্রহ্মারও গুরু এবং আদি কারণ । আপনাকে সকলে কেন নমস্কার করিবেন না ? যাহা ব্যক্ত ও যাহা অব্যক্ত তাহা আপনি এবং এই উভয়ের অতীত (বেদান্তপ্রসিদ্ধ) যে অক্ষর ব্রহ্ম তাহাও আপনি । আপনি ভিন্ন ত্রিভুবনে অন্য কিছুই নাই । ৩৭

হে অনন্তরূপ, আপনি আদিদেব ও অনাদি পুরুষ এবং বিশ্বের পরম প্রলয়স্থান । যাহা কিছু বেদ্য, তৎসমূহের বেদিতা আপনি । যাহা কিছু বেদ্য, তাহাও আপনি । আপনি পরম ধাম এবং আপনিই জগৎকে পরিব্যাপ্ত করিয়া আছেন । ৩৮

আপনি বায়ু, যম, অগ্নি, বরুণ ও চন্দ্র । আপনি কশ্যপাদি প্রজাপতিরূপ লোকপিতা এবং পিতামহ ব্রহ্মারও জনক । আপনাকে সহস্রবার নমস্কার করি । আপনাকে পুনরায় নমস্কার করি । আবার আপনাকে পুনঃপুনঃ নমস্কার করি । ৩৯

হে সর্বাত্মা, আপনাকে সম্মুখে নমস্কার করিতেছি, আপনাকে পশ্চাতে নমস্কার করিতেছি, আপনাকে সকল দিক হইতেই নমস্কার করিতেছি । হে অনন্তবীর্য, আপনি অসীম বিক্রমশালী । আপনি সমগ্র বিশ্বকে ব্যাপিয়া আছেন, অতএব আপনি সর্বস্বরূপ । আপনি ভিন্ন অন্য কিছুরই স্বতন্ত্র সত্তা নাই । ৪০

আপনার এই জগদাকার রূপের মাহাত্ম্য না জানিয়া প্রমাদহেতু বা প্রণয়বশতঃ আপনাকে সখা ভাবিয়া হে কৃষ্ণ, হে যাদব, হে সখে, এইরূপ অবিনয়ে সম্বোধন করিয়া যাহা বলিয়াছি । ৪১

এবং হে অচ্যুত, বিহার, শয়ন, আসন ও ভোজনকালে আপনার সাক্ষাতে বা অসাক্ষাতে, একাকী বা বন্ধুজনসমক্ষে পরিহাসচ্ছলে আপনাকে যে অসম্মান বা অমর্যাদা করিয়াছি, হে অপ্রমেয়, আপনার নিকট অজ্জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি । ৪২

হে অমিতপ্রভাব, আপনি এই চরাচর জগতের স্রষ্ঠা, পূজা, গুরু এবং গুরুরও গুরু । অতএব, ত্রিভুবনে আপনার সমান আর কেহ নাই । ত্রিভুবনে আপনার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ অন্য কে হইতে পারে ? ৪৩

হে পরমপূজ্যদেব, সেই হেতু আপনাকে দণ্ডবৎ প্রণাম করিয়া আপনার প্রসন্নতা প্রার্থনা করিতেছি । পিতা যেমন পুত্রের, সখা যেমন সখার, প্রিয় যেমন প্রিয়ার অপরাধ ক্ষমা করেন, আপনিও তদ্রুপ আমার অপরাধ ক্ষমা করুন । ৪৪

হে দেব, যাহা পূর্বে আমি দর্শন করি নাই বা অন্য কেহ দর্শন করে নাই, আপনার সেই বিশ্বরূপ দেখিয়া আমি আনন্দিত হইয়াছি । আমার মন ভয়ে ব্যথিত হইয়াছে । হে দেবেশ, হে জগন্নিবাস, আমার অতি প্রিয় আপনার সেই পূর্বরূপই আমাকে দেখান । আমার প্রতি প্রসন্ন হউন । ৪৫

হে সহস্রবাহো, আমি আপনাকে পূর্ববৎ সেই কিরীট, গদা ও চক্রধারিরূপে দেখিতে ইচ্ছা করি । হে বিশ্বমূর্তি, এখন আপনি আপনার সেই চতুর্ভুজমূর্তি ধারণ করুন । ৪৬ 

শ্রীভগবান্‌ বলিলেন -
হে অর্জুন, তোমার প্রতি প্রসন্ন হইয়া স্বীয় ঈশ্বরীয় যোগপ্রভাবে আমার তেজোময়, সমগ্র, অন্তশূন্য এবং আদিভূত ও উত্তম বিশ্বরূপ তোমাকে দেখাইলাম । তুমি ভিন্ন অন্য কেহ পূর্বে এই রূপ দর্শন করে নাই । ৪৭

হে কুরুশ্রেষ্ঠ, মনুষ্যলোকে চতুর্বেদাধ্যয়ন বা যজ্ঞবিজ্ঞান দ্বারা বা দানের দ্বারা বা অগ্নিহোত্রাদি শ্রৌত কর্মের দ্বারা বা চান্দ্রায়ণাদি কঠোর তপস্যা দ্বারাও আমার এই বিশ্বরূপ কেহ দেখিতে পায় নাই । একমাত্র তুমিই ইহা দর্শন করিলে । ৪৮

আমার এই ভয়ঙ্কর বিশ্বরূপ দেখিয়া তুমি ব্যথিত ও বিমূঢ় হইও না । ভয় ত্যাগ করিয়া প্রসন্নচিত্তে আমার এই সেই চতুর্ভুজ শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধর পূর্বরূপ দর্শন কর । ৪৯

সঞ্জয় বলিলেন -
শ্রীভগবান্‌ অর্জুনকে এইরূপ বলিয়া বসুদেবগৃহে জাত স্বকীয় চতুর্ভুজ রূপ তাঁহাকে দেখাইলেন এবং পুনরায় সৌম্যমূর্তি ধারণ করিয়া ভীত অর্জুনকে আশ্বস্ত করিলেন । ৫০

অর্জুন বলিলেন -
হে জনার্দন, আপনার এই সৌম্য মানুষরূপ দেখিয়া আমি প্রসন্নচিত্ত ও প্রকৃতিস্থ (সুস্থ) হইলাম । ৫১

শ্রীভগবান্‌ অর্জুনকে বলিলেন -
তুমি আমার যে অতি দুর্লভদর্শন বিশ্বরূপ দেখিলে দেবতাগণও সদা ইহার দর্শনাকাঙ্ক্ষী । ৫২

তুমি আমার যে রূপ দর্শন করিলে এই বিশ্বরূপ বেদপাঠ, চান্দ্রায়ণাদি তপস্যা, গো-সুবর্ণাদিদান বা পূজার দ্বারা দর্শন করা যায় না । ৫৩

হে অর্জুন, কেবলমাত্র অনন্যা ভক্তি দ্বারাই ঈদৃশ আমাকে (শাস্ত্র দ্বারা) জানিতে ও স্বরূপতঃ প্রত্যক্ষ করিতে এবং আমাতে প্রবেশরূপ মোক্ষলাভ করিতে ভক্তগণ সমর্থ হয়, অন্য উপায়ে নহে । ৫৪

হে পাণ্ডব, যে ব্যক্তি মৎকর্মকারী, মন্নিষ্ঠ, মদ্ভক্ত ও আত্মীয়স্বজনাদিতে আসক্তিশূন্য এবং সর্বভূতে, এমন কি অত্যন্ত অপকারীর প্রতিও বৈরভাববিহীন, তিনি আমাকে প্রাপ্ত হন । ৫৫

ভগবান্ ব্যাসকৃত লক্ষশ্লোকী শ্রীমহাভারতের ভীষ্মপর্বের অন্তর্গত শ্রীমদ্ভগবদ্গীতারূপ উপনিষদে ব্রহ্মবিদ্যাবিষয়ক যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে বিশ্বরূপদর্শন নামক একাদশ অধ্যায় সমাপ্ত ।
_________________________________________


১) মোহ : 'আমি ইঁহাদের হন্তা', 'ইঁহারা আমার দ্বারা হত হইবেন' এইরূপ বিপরীত বুদ্ধি

৩৩) সব্যসাচী = যিনি সব্য (বাম হস্ত) দ্বারাও বাণনিক্ষেপে সমর্থ

৪৬) অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে চতুর্ভুজরূপেও দেখিতেন, ইহা প্রতীত হয় । - [শ্রীধরস্বামী ও শ্রীমধুসূদন সরস্বতী]

৫১) চতুর্ভুজ হইলেও মানুষরূপ ইহা প্রতীত হয় । 

৫৪) অনন্যা ভক্তি = যে ভক্তিলাভ হইলে ভগবান্‌ ব্যতীত অন্য কিছু উপলব্ধ হয় না । সর্বত্র ও সর্বদা ঈশ্বরদর্শন হয় । 
_________________________________________

*Hard Copy Source:
"Srimadbhagabadgeeta" translated by Swami Jagadeeshwarananda, edited by Swami Jagadananda. 27th Reprint - January, 1997 (1st Edition - 1941), © President, Sriramkrishna Math, Belur. Published by Swami Satyabrotananda, Udbodhan Office, 1 Udbodhan Lane, Bagbazar, Kolkata-700003. Printed by Rama Art Press, 6/30 Dum Dum Road, Kolkata-700030.

Sanskrit Source
English Translation

Disclaimer:
This site is not officially related to Ramakrishna Mission & Math. This is a personal, non-commercial, research-oriented effort of a novice religious wanderer.
এটি আধ্যাত্মিক পথের এক অর্বাচীন পথিকের ব্যক্তিগত, অবাণিজ্যিক, গবেষণা-ধর্মী প্রয়াস মাত্র ।

[Digitised by scanning (if required) and then by typing mostly in Notepad using Unicode Bengali "Siyam Rupali" font and Avro Phonetic Keyboard for transliteration. Uploaded by rk